আজ শুক্রবার পানি পরিমাপের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জামালপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপৎসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমার ধরন অন্যান্যবারের থেকে আলাদা। এবার ধীরগতিতে পানি কমছে।
বন্যাকবলিত কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেশির ভাগ মানুষ নদীভাঙনের শিকার অথবা হতদরিদ্র। তাঁরা দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। বন্যার কারণে তাঁরা তিন সপ্তাহ ধরে কর্মহীন। ফলে এখন তাঁরা তিন বেলা ঠিকমতো খেতে পারছেন না।
অনেকেই গবাদিপশুর সঙ্গে ছাপরা তুলে থাকছেন। ফলে তাঁদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক বানভাসি মানুষ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সাতটি উপজেলার ৪৬টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি পৌরসভাও বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৪৯০টি গ্রামের ৫ লাখ ৯৮ হাজার ২১৭ জন পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে ২ হাজার ৮১০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
দ্বিতীয় দফায় তিনজন বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। এ নিয়ে বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, বন্যার্তদের জন্য ইতিমধ্যে সারা জেলায় ৩১০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ৪ হাজার শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিশু খাদ্যের জন্য ২ লাখ ও গোখাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুর্গত এলাকায় এসব ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে যাবে।


0 Comments